বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...
শিরোনাম :
আসাদুজ্জামান আসাদের যত ‘অপকর্ম’ শ্রীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা মিজানুর রহমান মাগুরাবাসিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কাজী রফিকুল ইসলাম মাগুরাবাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাগুরা জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আহম্মদ পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাগুরা জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরিয়ত উল্লাহ বঙ্গবন্ধু ল’টেম্পল কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন বদলি আবেদন শুরু শনিবার চট্টগ্রামে ১০ জুয়াড়ি গ্রেফতার

আসাদুজ্জামান আসাদের যত ‘অপকর্ম’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০২৪
  • ১৮ বার পঠিত
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় পুলিশ হেফাজতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি এসএম আসাদুজ্জামান (৫২)কে গ্রেফতারের পর তার নানা অপকর্মের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
গ্রেফতার আসাদুজ্জামান এই মামলার ৫ নং আসামী। এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বেশকয়েকটি থানায় ও আদালতে ডাকাতি,চাঁদাবাজি, আদালতের আদেশ জালিয়াতি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ২৫টি মামলা ও জিডি রয়েছে। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি নানা অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছেন। বিভিন্ন সময় জেলও খেটেছেন। এরপর জেল থেকে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ জগতে পা রাখেন আসাদ। ভূমি জবর-দখল, চাঁদাবাজি, জালিয়াতি, নারী নির্যাতন, নারী ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে তার নাম জড়িয়ে রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানার মামলা নং- ৩৯ (১২) ১৯ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৮৫/৫০৬ দঃ বিঃ , চান্দগাঁও থানার মামলা নং-২(১)২০ ধারা ১৪৩/৪৮৭ / ৫০৬ দঃ বিঃ, চকবাজার থানা মামলা নং- ২(৬) ১৮ ধারা ১৪৩/১৪৪/১৪৭/৩২৩/৩৮৫/১০৯/৫০৬ দঃ বিঃ , চান্দগাঁও থানার মামলা নং- ১১ ( ৮) ২০১৮ ধারা ১৪৩/১৪৭/৩২৩/৩৮৫/৩৭৯/৫০৬ দ: বি:, চকবাজার থানা মামলা নং- ১০ (তারিখ: ২৬/০৭/২০১৮) ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৬৫/৩৭৯/৪২৭/৫০৬, পাঁচলাইশ থানার মামলা নং- ২২ (তারিখ: ২৮/০৮/২০০৮) (জি.আর ৫৮০/০৮), চান্দগাঁও থানার মামলা নং- ১৫ (১২) ২০১২ ধারা ১৪৩/৪৪৭/১৪৭/৩২৬/৩৮৫/৪২৭/৫০৬ , চান্দগাঁও থানার মামলা নং ২৩ (০৯) ০৮ , চান্দগাঁও থানার জি ডি নং ১৩০৮/২০১৭ (সহকারি কমিশনার ভূমি, চান্দগাঁও কর্তৃক সরকারি খাস জায়গা দখলের বিষয়ে জিডি, চান্দগাঁও থানার জি ডি নং ৫৬৩/২০১২, চান্দগাঁও থানার জি ডি নং ৫৬৪/২০১২, চান্দগাঁও থানার জিডি নং ১৪১৭/২০১২ , চান্দগাঁও থানার জিডি নং ২৮১/২০১২, চান্দগাঁও থানার জিডি নং ২১৫/২০১১, চান্দগাঁও থানার জিডি নং ৪৯৮/২০১২, চান্দগাঁও থানার জিডি নং ৬৮৯/২০১২ , চান্দগাঁও থানার জি ডি নং ৯৮৬/২০১২, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলা নং- ৩৪৩ / ২০১৯, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সি আর মামলা নং- ১৫৮/২০২০ (চেক ডিজঅনার মামলা), চকবাজার থানা মামলা নং: ২, তারিখ: ২২/০৫/২০১৮ইং ধারা ১৪৩/১৪৪/১৪৭/৩২৩/৩৮৫/১০৯/৫০৬ দঃ বিঃ, চকরিয়া থানার মামলা নং- ১ তারিখ: ৩১/১২/২০০৪ইং ধারা ১৭৪/৪১৯/৩৬৩/৩৭১ দ:বি: (র্যাবের পোশাক পরিধান করে র্যাব সেজে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি), চান্দগাঁও থানার মামলা নং ৪, তারিখ: ০৫/০৬/২০০৭ইং ধারা ১৪৩/৪৪৭/১৪৭/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ দঃ বিঃ, কোতোয়ালী (চট্টগ্রাম) থানার মামলা নং ২৮ তারিখ: ১৭/০৭/২০০৬ইং ধারা ১৪৩/২৮৬/৫০৬ দঃবিঃ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালত সি.আর মামলা নং- ৭১২/১১ (চেক ডিজঅনার মামলা,চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত মামলা নং-২০০/০৬ তারিখ: ০৬/০৯/২০০৯ইং, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চট্টগ্রাম মামলা নং- ২৭১৫/১৪  ১৭ (২) ধারা মতে মামলা, চট্টগ্রাম মহানগর ৫ম যুগ্ম জেলা জজ সি.আর. (কোতোয়ালী) মামলা নং- ৮৪/২০২১ ,আমমোক্তার নামা ২৭৫৫/০৬ এর দলিল দাতাদের স্বাক্ষর এবং টিপসই জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধান বলছে২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় র‌্যাবের পোশাক পরিধান করে চকরিয়ায় স্বর্ণতারা জুয়েলার্স থেকে কয়েকশ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে ডাকাত দল। পরদিন দোকানের মালিকের বড় ছেলে পলাশ ধর বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। খোঁজ নিয়ে গেছে, ওই সময় র‌্যাবের পোশাক পরিহিত অবস্থায় স্বর্ণ ডাকাতি করেন এমএস আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার বাহিনী । স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় আসাদসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্রও দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
জালিয়াতির মাধ্যমে ২ কোটি টাকা মূল্যের সরকারী খাস জায়গায় আসাদ গড়ে তুলেছেন চারতলা ভবন। সেই ভবনে চলে পতিতালয় ও মাদক ব্যবসা। ওই ভবনের ভাড়া থেকে তিনি মাসে চার লাখ টাকা আয় করেন । তার এই অবৈধ আয়ের কিছু অংশ যায় পুলিশ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পকেটে। এই সরকারি খাস জায়গার প্রতিবেদন দিতে গিয়ে পূর্ব ষোলশহরের তহশীলদার ইমাম উদ্দিনকে নানাভাবে নাজেহাল করে ভয়ভীতি দেখায় আসাদ। পরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) চান্দগাঁও থানায় সন্ত্রাসী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি জিডি করে।
‘ডাস’ (ডাইনামিক ওয়েলফোর এসোসিয়েশন) এবং বহাদ্দারহাটস্থ মাল্টিপারপাস সমিতি দুটি পৃথক সংস্থা। উভয়ের কর্ণধার আসাদুজ্জামান। হত দরিদ্র মেয়েদের কিস্তির জমাকৃত টাকা তাদের ফেরত না দিয়ে তিনি গায়ের জোরে ৫০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ‘ডাস’ এ স্থানান্তর করে। পরে ওই টাকা ‘ডাস’ হতে আসাদুজ্জামান উত্তোলন করে এবং আত্মসাৎ করে ।
মূল্যবান জমি জোর দখল করে সেখানে ঘরবাড়ী নির্মাণ করা আসাদুজ্জামানের নেশা। মঞ্জুর কাদের নামে এক ব্যক্তির জমি জোর করে দখল করে সেখানে একটি টিনশেড ঘর করেছে আসাদ। একইভাবে তার বাড়ীর পাশে দুবাই প্রবাসীর পাঁচতলা বাড়ী দখল করে সেটি ভাড়া দিয়েছেন তিনি।
অন্যের জমি দখলবাজির নেশা থেকেই দুদকের সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর জমি দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে আসাদ । শহীদুল্লাহর নামে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে শুরু থেকেই নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন তিনি। তহশীলদার নাজিমউদ্দিনের সহায়তায় শহীদুল্লাহর শ্বশুড়ের জায়গার ভুয়া দাগ এবং খতিয়ান সৃজন করে তিনজনের কছে বিক্রি করে দেয় আসাদুজ্জামান। এ নিয়ে যেন কোন প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য দুদকের সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেন তিনি। এরপর আদালতের সমন গায়েব করে মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করায় আসাদ ও তার সহযোগীরা। পরে পুলিশ হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়।
তবে তার মৃত্যুর পরই খুলতে থাকে রহস্যের জট। দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া কাজের মেয়ে সাজিয়ে করা মামলাটি পরে মিথ্যা মামলা বলে প্রত্যাহার করে নেন মামলার বাদী তানিয়া।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছার আদালতে অবসরপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তা ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রী ফৌজিয়া আনোয়ার ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করলে থানায় মামলা রেকর্ড করার আদেশ দেয়া হয়।
এই মামলার আসামিরা হলেন- তৎকালীন চান্দগাঁও থানার ওসি মো. খাইরুল ইসলাম, এএসআই মো. ইউসুফ, এএসআই সোহেল রানা, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মবিনুল হক, চান্দগাঁও থানা এলাকার বাসিন্দা এসএম আসাদুজ্জামান (৫২), মো.জসীম উদ্দীন, রনি আক্তার তানিয়া (২৬) ও কলি আক্তার (১৯)।
অবসরপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তা ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রী ফৌজিয়া আনোয়ার মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক (ডিডি) পদ থেকে অবসর নেন। তিনি নগরের চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে গত ২৯ আগস্ট ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও তার শ্যালক মোহাম্মদ কায়সার আনোয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন রনি আক্তার তানিয়া নামে এক ব্যক্তি। আদালত মামলার শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ওইদিনই অপরাধ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
ওই সমন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী হারুন অর রশীদ গায়েব করে ফেলেন। ফলে আসামিরা আদালতে হাজির হওয়ার কোনো সমন পাননি। এরপর মামলার পরবর্তী তারিখ দেন আদালত। ওই তারিখে মামলার বাদী হাজির না হওয়ায় তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু ওইদিনই আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে দেন। এরপর গত ৩ অক্টোবর রাতে শহীদুল্লাহকে আদালতের ওয়ারেন্ট দেখিয়ে গ্রেপ্তার করে নগরের চান্দগাঁও থানা পুলিশ। থানায় নেওয়ার পর ভুক্তভোগী শহীদুল্লাহকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র মৃত্যু হয়।
গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে বাকলিয়া থানার রাহাত্তালপুল এলাকা থেকে শহীদুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি জসীম উদ্দীন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নগরের চকবাজার এলাকা থেকে আসামি মো.লিটনকে এবং গত ২৫ এপ্রিল বায়েজি এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। রনি আক্তার তানিয়া (২৬) ও কলি আক্তার (১৯) শুরু থেকে এ মামলায় জেল হাজতে রয়েছেন। আসাদ,জসিম ও লিটনের প্ররোচনায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে তারা। এছাড়া আসামী জসিমও রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  দিয়েছেন। সেখানেও উঠে এসেছে আসাদুজ্জামানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs