শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১২:০৭ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

চট্টগ্রামে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩
  • ৮১ বার পঠিত

চট্টগ্রাম নগরীর আইস ফ্যাক্টরী রোডের রেলওয়ে কলোনীতে প্রায় দু’বছর ধরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের খুঁটি থেকে সরাসরি বিদ্যুতের লাইন নিয়ে ব্যবহার করছিলেন প্রায় ৩০ জন ভাড়াটিয়া। অবৈধ সংযোগের বিনিময়ে প্রতিমাসে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের সাহায্যকারী মাহমুদুল হাসান পলাশকে মোটা অংকের টাকা দিতে হত। তবে এ জন্য কোন প্রকার রশিদ বা বিলের কপি দেয়া হয়নি ব্যবহারকারীদের। পলাশকে বারবার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগটি খুলে নিতে বলা হলেও তিনি তাদেরকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অনুমতি দেন, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে।

গত ১০ জুলাই সেখানে অভিযানে যায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ আইরিন পারভীন। এসময় অবৈধভাবে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের সংযোগ নেয়ার অপরাধে ৫ জনকে সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন, রেলওয়ের বুকিং সহকারী আবু ওবায়েত হীরু, তার সরকারি কোয়ার্টারের ভাড়াটিয়া আকবর ও তার স্ত্রী রহিমা, এবং শেলী  ও  তার স্বামী হোটেল কর্মচারী মুজিব।

ওই সময় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা পিডিবির মাদারবাড়ি জোনের সাহায্যকারী মাহমুদুল হাসান পলাশকে দেখে ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানান অবৈধ বিদ্যুতের গ্রাহক রহিমাসহ অন্যরা।

তারা বলেন, “পলাশ অবৈধ সংযোগ দেখার পর সেটি না খুলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে যেত”।

অনুসন্ধান বলছে, প্রধান সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে লাইন নেয়া হলেও দুই বছরে তা চোখে পড়েনি বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বশীলদের। এর কারণ, পলাশ বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা তুলে গ্রুপ লিডার তড়িৎবিদ বেলাল উদ্দিন চৌধুরীর হাতে তুলে দেন। অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও সেদিন গ্রুপ লিডারের কথাই বলেছিলেন পলাশ। সেখানে গ্রুপ লিডার তড়িৎবিদ বেলাল উদ্দিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের কিছু কর্মকর্তা ও নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় মাদারবাড়ি জোনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুকান্ত মিত্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।         এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও কারা এর সাথে জড়িত তাদের নাম নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন নি গ্রাহকরা। যেকারণে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে শীঘ্রই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন তিনি।

এদিকে অভিযানের পর ছুটিতে চলে গেছেন অভিযুক্ত সাহায্যকারী মাহমুদুল হাসান পলাশ।                                          অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ সংযোগের বিষয়টি তিনি অনেক আগে জেনেছিলেন। এরপর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

তাহলে কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হল? আর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কেন গ্রুপ লিডারের কথা বলেছিলেন তিনি? এমন প্রশ্নের জবাবে বিরক্তির সুরে পলাশ বলেন, এসকল বিষয়ে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবকিছুই জানেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পলাশের গ্রুপ লিডার তড়িৎবিদ বেলাল উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন ধরেন নি তিনি।

অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী রহিমা বলেন, “ রেলওয়ের বিদ্যুতের লাইনে অনেক বেশি লোডশেডিং হয়। এ কারণে বাচ্চাদের পড়ালেখার সুবিধার জন্য অবৈধ বিদ্যুতের লাইনটি ব্যবহার করতাম। প্রতিমাসে পলাশ এসে বিল আদায় করতো। লাইনটি কেটে দেয়ার জন্য আমরা তাকে বলেছিলাম । তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘কোন সমস্যা হবে না’ । কিন্তু এখন আমাদের মতো অসহায়দের লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমরা পলাশের বিচার চাই।”

আরেকজন গ্রাহক শেলী বলেন, জরিমানার টাকা পরিশোধের বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনদের সাথে কথাবার্তা চলছে ।

পিডিবির চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এধরণের দুর্নীতির কারণে একদিকে বিদ্যুতের যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর বছর শেষে এসব অবৈধ বিদ্যুতের ব্যবহার চলে যায় সিস্টেম লসের হিসেবের খাতায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসকল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

 

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV