বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

চবি ছাত্রের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩০৪ বার পঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া রানা মিয়ার পড়াশোনার খরচ চালানোর দায়িত্ব নিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. শাহ্গীর আলম ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান রানার হাতে প্রাথমিকভাবে নগদ ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

রানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের বেলানগর গ্রামে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র রানা। ক্লাস শুরু না হওয়ায় বর্তমানে থাকেন গ্রামে। রানার বাবা আইন উদ্দিন ও মা সুহেরা বেগম। আরও আছে দুই ভাই-বোন। সবাই গ্রামেই থাকেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আইন উদ্দিন। গ্রামে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রানার বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে তা জেলা প্রশাসক মো. শাহ্গীর আলমের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপরই রানার পড়াশোনার খরচ চালানোর উদ্যোগ নেন তিনি। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথমবর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত রানাকে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমানের পক্ষ থেকে প্রতি ছয় মাস পর পর ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এজন্য রানাকে প্রতি ছয় মাস পর সশরীর, অনলাইন বা ইমেইলের মাধ্যমে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি দরখাস্ত লিখতে হবে। পরে ইউএনও রানার ব্যাংক হিসাবে ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেবেন। তবে এজন্য জেলা প্রশাসক রানাকে ভালো ফলাফল অব্যাহত রাখার শর্ত দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু না হওয়ায় রানা বর্তমানে গ্রামে থাকেন। বাড়িতে টিউশনি করাচ্ছেন। যদিও তাতে টাকা খুবই কম। রানার বাবা আইন উদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি । গ্রামে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করেন। দৈনিক পান ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে কোনো কোনো দিন কাজও থাকে না।

রানার পরিবার জানায়, না খেয়েই স্কুলে যেতে হয়েছে রানাকে। নিজের পড়ার খরচ জোগাতে গ্রামের শিশুদের পড়িয়ে ২০১৮ সালে ভোলাচং উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৬১ এবং ২০২০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এর আগে পিইসিতে বৃত্তি ও এসএসসিতে কুমিল্লা বোর্ড থেকে বৃত্তি পান তিনি। সংসারের অভাব-অনটনের জন্য বাবা আইন উদ্দিন অনেকবার রানার পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। সেলুনের কাজে দিতে চেয়েছিলেন। তবে অদম্য রানা হাল ছাড়েননি।

রানার পড়াশোনায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। কলেজে পড়ার সময় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফরম কেনা ও ভর্তি পর্যন্ত পাঁচ দফায় নবীনগর পৌরসভার মেয়র শিব শংকর দাস মোট ২৫ হাজার টাকা দেন। শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা জোগাড় হয় আর্থিক সমস্যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং করতে পারেননি রানা। তখন গ্রামে ২০ থেকে ২৫ জন ছেলেমেয়েকে পড়ানো শুরু করেন। সেই টাকা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার বই কিনে বাড়িতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেন।

সহায়তা পেয়ে রানা মিয়া বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মো. শাহ্গীর আলম ও সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমানের সহায়তার আশ্বাসে পড়াশোনার খরচ চালানোর দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কথামতো ও ব্যবস্থাপনায় রানার পড়াশোনার খরচ চালানোর দায়িত্ব আমি নিয়েছি। জেলা প্রশাসন এটি সমন্বয় করবে।’

জেলা প্রশাসক শাহ্গীর আলম বলেন, ‘জেলা প্রশাসনে সার্বিক সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় রানাকে স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর ২৫ হাজার টাকা করে দেবেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV