শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

পুলিশ পরিচয়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিল রিপন, ধরা পড়ল মানিব্যাগ চুরি করে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৮৩ বার পঠিত

ব্যাগ মালিকের অবর্তমানে মানিব্যাগ চুরি করে ধরা পড়লেন রিপন সিকদার। লোকজন জড়ো হলে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি পুলিশের জেরায়। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেড়িয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সদর নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান।

তিনি বলেন, লঞ্চের যাত্রীরা যাকে চোর হিসেবে ধরেছে সে শুধু চোর নন, অভিযুক্ত খুনি। আর পরোয়ানা তামিল করা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের পরির্দশক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার রিপন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে বরগুনা, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। এতদিন পলাতক ছিলেন। ঘটনাক্রমে সে আটক হয়েছে।

চিহ্নিত এই অপরাধী এতদিন কীভাবে পুলিশ পরিচয়ে ঘুরেছেন অবশ্য এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই এই দুই কর্মকর্তার কাছে।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনার সূত্রপাত বরিশালগামী এমভি পারাবত-১২ লঞ্চে।

লঞ্চের স্টাফ সুরুজ আকন বলেন, দোতলার ডেকের এক যাত্রী শেষ রাতের দিকে ব্যাগে মানিব্যাগ রেখে ওয়াশরুমে যান। ফিরে এসে তিনি মানিব্যাগ পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি তিনি লঞ্চ স্টাফদের জানান। আমরা লঞ্চের ঊর্ধ্বতনদের জানালে তারা সিসি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেন কে মানিব্যাগ চুরি করেছে। লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করলে তাকে আটক করা হয়। প্রথমে সে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন। তার সঙ্গে পুলিশের ব্যাগ, একটি মোটরসাইকেলে পুলিশ স্টিকার লাগানো রয়েছে। আমরা তখন তাকে নৌ-থানায় হস্তান্তর করি।

লঞ্চের আরেক স্টাফ জানিয়েছেন, আগেও রিপন পারাবত-১১ লঞ্চে চুরি করে ধরা পরেছিলেন। তবে তখন প্রমাণের অভাবে এবং পুলিশের আইডি কার্ড দেখিয়ে পার পেয়ে যান তিনি।

লঞ্চের আরেক যাত্রী সাইদুল ইসলাম বলেন, মানিব্যাগ চোর রিপনকে আটকের সময় সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিল। রিপন নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিলে তার স্ত্রীও তা সমর্থন করে স্বামীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।

ভুক্তভোগী যাত্রী শহিদুল আলম বলেন, মানিব্যাগ খোয়া যাওয়ার পরে বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে তাকে নজরদারিতে রাখে। এরপরে লঞ্চ থেকে নামার পরে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। আমি মানিব্যাগ, টাকা সবই ফেরত পেয়েছি।

বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক রিপন স্বীকার করেন সে একটি হত্যা মামলার আসামি। আমরা তার পুলিশ রিপোর্ট চেক করে দেখি ২০১১ সালে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি তিনি। তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুকূলে ওই থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার রিপনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরও বেশ কয়েকটি মামলার পরোয়ানা রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামির সঙ্গে থাকা মোটারসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গাড়িটি মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV