মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

ব্যাংকারের বিকৃত যৌন হেনস্তার শিকার ১০০ নারী ডাক্তার !

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২
  • ৩২৯ বার পঠিত

এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান এক নারী ডাক্তার। শুধু তিনিই নন, অনলাইনে পেশায় ব্যাংকার ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তির যৌন হেনস্তার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের আরও অনেক নারী ডাক্তার। গুগল সার্চসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নারী ডাক্তারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের কাছে বিকৃত যৌনাচারের ছবি, কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল বার্তা পাঠিয়ে বিরক্ত করে আসছিলেন তিনি।

ঢাকায় বেসরকারি একটি ব্যাংকে ক্যাশ অফিসার হিসেবে কর্মরত এই লোকের নাম সারোয়ার আহমেদ কামরুল। পুলিশ বলছে, তার মূল টার্গেট ও নেশাই হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের বড় বড় হাসপাতালের নারী ডাক্তার। পুলিশের পাওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অন্তত ১০০ নারী তার এমন বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়েছে।

রাজধানীর পুলিশ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নারী ডাক্তারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে হঠাৎ একটি অশ্লীল ভিডিও আসে। ওই ডাক্তার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পর পর একইভাবে বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও পাঠাতে থাকেন কামরুল। কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল বার্তা ছাড়াও নিজের গোপনাঙ্গের ছবিও পাঠান। এরপর ওই ব্যাংকারের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন নারী ডাক্তার। সেই মামলায় সারোয়ার আহমেদ কামরুল নামের ওই ব্যাংকারকে গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দেন পুলিশকে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান এক নারী ডাক্তারকেও একইভাবে যৌন হেনস্তা করেন বেসরকারি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী নারী ডাক্তার জানান, তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে কয়েক মাস আগে ভিডিও কল করেন কামরুল। অপরিচিত নম্বর দেখে রিসিভ না করায় ওই ডাক্তারকে অশ্লীল ভিডিও এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে থাকেন। পরে ওই নারীকে ফোন দিয়ে কামরুল জানান, তার কণ্ঠ সুন্দর, তাই তাকে ভালো লেগেছে।

এমন ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলের সেই ভুক্তভোগী নারী ডাক্তার চট্টগ্রামের একটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

কামরুলের মোবাইল পরীক্ষা পুলিশ জানতে পেরেছে, কামরুল বিভিন্ন পর্নো সাইটের মেম্বার। তার মূল টার্গেট হচ্ছে দেশের নামি হাসপাতালগুলোর নারী ডাক্তাররা। গুগল সার্চসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নারী ডাক্তারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন তিনি। এরপর মোবাইলের ফোনবুকে এ, বি, সি এবং ১, ২, ৩ ইত্যাদি রূপকভাবে সেইভ করে রাখেন। এভাবে সংগ্রহ করা প্রায় ১০০ নারী ডাক্তারের ফোন নম্বর, কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজসহ অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাওয়া গেছে কামরুলের মোবাইলে।

ব্যক্তিগতভাবে কাউকে না চিনলেও নারী ডাক্তারদের ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করতেন। এর মধ্যে যাদের কণ্ঠ ভালো লাগতো, তাদের অশালীন বার্তা পাঠাতে থাকতেন। ফোন রিসিভ না করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করতেন।

কামরুল বিয়ে করেননি। ভালো চাকরি করলেও বিয়েতে তার আগ্রহ নেই। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর থেকে তিনি একা থাকতে শুরু করেন। এর একপর্যায়ে পর্নোতে আসক্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV