সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

ময়মনসিংহে চাকরির জন্য ডেকে নিয়ে জিম্মি, চার ভাই গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২
  • ২৩৮ বার পঠিত

সংবাদপত্রে চাকরির বিজ্ঞাপন নজর কারে চাঁদপুরের মো. কাউছার হামিদের (২৭)। জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েই মোবাইল ফোনে জানতে পারেন তিনি চাকরির জন্য চূড়ান্ত হয়েছেন। চাকরিদাতার সঙ্গে ময়মনসিংহে দেখা করতে এসে দেখেন ভিন্ন রূপ। উঠিয়ে নিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য চলে কাউছারকে লাঠিপেটা।

লাখ টাকা আদায়ের পর অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। পরে পুলিশের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে অভিযান চালিয়ে চার ভাইয়ের এই চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি পুলিশের একটি দল। পরে শনিবার বিকেলে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের ময়মনসিংহ আদালতে সোপর্দ করা হয়, তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।

গ্রেপ্তার চার ভাই হলেন- মো. শাহজাহান মিয়া (৪৫), মো. সাবিকুর রহমান শফিক মাস্টার (৩৪), মো. শামীম হাসান ও মো. সাইদুল ইসলাম (২৪)। তারা ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত সেকান্দর আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, চাকরিপ্রার্থী কাউছারের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড়া গ্রামে। ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে তিনি। অন্তত দুই মাস আগে চাকরির খবর প্রত্রিকায় ‘প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংস্থায়’ চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অফিসার ইনচার্জ পদে জীবন বৃত্তান্ত পাঠান কাউছার। গত ২৬ জুন মোবাইলে ফোন করে জানানো হয় চাকরি হয়েছে, তাকে ময়মনসিংহে আসতে হবে।
২৯ জুন বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর শম্ভুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে যান তিনি। ওই সময় অপেক্ষায় থাকা শফিক মাস্টার এবং তার ভাই শাহজাহান জোর করে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে শফিক মাস্টার। তিনি স্থানীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান বলে মাস্টার হিসেবে পরিচিত। পরে তার সঙ্গে যুক্ত হয় অপর ভাই শামীম ও সাইদুল ইসলাম। ২৯ জুন বিকেলে থেকে ৩০ জুন বিকেল পর্যন্ত চলে কাউছারের উপর নির্যাতন। পিঠমোড়া বেঁধে তিন লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে লাঠি দিয়ে পালা করে চার ভাই মিলে পেটায় তাকে।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে কাউছারকে পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে আলাপ করানো হয়। বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আনানো হয় ৩০ জুন বিকেলে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা সাত হাজার টাকা রেখে সন্ধ্যার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি রাতেই ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত বলে সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনা জেনে শুক্রবার দিন ও রাতভর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার ভাই চক্রের সবাইকে আটক করে। উদ্ধার করা হয় তাকে মারধর করার একটি লাঠি, বেঁধে রাখার রশি, মোবাইল ফোন, সাত হাজার টাকা, অপহরণ কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই কাউছার বাদী হয়ে চার ভাইকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

ভুক্তভোগী কাউছার হামিদ জানান, চাকরির খুব প্রয়োজন হওয়ায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিনি এসে ফাঁদে পড়েছেন। যাচাই ছাড়া যেনো কেউ এ ধরনের প্রতারকের ফাঁদে না পড়ে। তার সঙ্গে যে অপরাধ হয়েছে তার কঠোর বিচার চান তিনি।

এদিকে তার করা মামলায় চার ভাইকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ আদালতে সোপর্দ করা হয়। ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। চার ভাই চক্রের হোতা শফিক মাস্টার বছর খানেক আগেও চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, বিভিন্ন সংবাদপত্রে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল শফিক মাস্টার। বছর খানেক আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আরও বড় পরিসরে শুরু করেছে প্রতারণা। চার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য বের করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV