মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত বেঙ্গল স্যু যাচ্ছে বিশ্বের ২৮টি দেশে

মাহমুদুর রহমান মনজু ,লক্ষ্মীপুর:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৬৮ বার পঠিত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উৎপাদিত বেঙ্গল স্যু রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৮টি দেশে। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রায় দেড় হাজার নারী-পুরুষ কাজ করছেন শতভাগ রফতানিমুখী চামড়াজাত এ প্রতিষ্ঠানটিতে। আর শ্রমিকরা বলছেন, রমযান মাসেও শ্রমিকবান্ধব পরিবেশে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারছেন তারা।
জানা যায়, লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া এলাকায় ১৬ একর জায়গাজুড়ে বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রির অবস্থান। তবে ১৯৭৮ সালে এটি ছিল সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল। ক্রমাগত লোকসানে পড়ে ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। ২০০৪ সালে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি কিনে নেন রায়পুরের বাসিন্দা আলী হায়দার চৌধুরী। একই বছরের জুলাইয়ে ১৫ দশমিক ৭৩ একর ভূমিসহ আলী হায়দার চৌধুরীকে কারখানার দখল বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)। ২০০৬ সালের ৭ জুন মালিকানা চুক্তি সম্পাদন হয়। প্রথমে শর্ত ছিল, টেক্সটাইল মিলই চালু করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় টেক্সটাইল মিলের যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে যায়। এ অবস্থায় আলী হায়দার চৌধুরী বেসরকারীকরণ কমিশন থেকে জুতা বা অন্য শিল্প স্থাপনের অনুমতি নেন। পরে আলী হায়দার চৌধুরীর ছেলে টিপু সুলতান নোয়াখালী টেক্সটাইল মিলের স্থানে বেঙ্গল স্যু নামের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। ২০১১ সালের ফেব্রæয়ারিতে উৎপাদনে আসে প্রতিষ্ঠানটি। একই বছরের ১৪ আগষ্ট এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত স্যু প্রথম ইউরোপে রপ্তানির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। কারখানাটি থেকে প্রতিদিন রপ্তানিমুখী ৫ হাজার জুতা তৈরী হচ্ছে। জুতা তৈরিতে প্রতিদিন ব্যস্ত সময় কাটান প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক। এরমধ্যে এক হাজারেরও বেশি রয়েছে নারী শ্রমিক।
১৯৮৩ সাল থেকেই আলী হায়দার চৌধুরী ঢাকায় মেসার্স বেঙ্গল লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত চামড়া রফতানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর সুবাদে বিশ্বের বিভিন্ন চামড়াজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা আলী হায়দার চৌধুরীর ছেলে টিপু সুলতানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকেও বেশ ধারাবাহিক বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ। বর্তমানে কারখানাটির বার্ষিক আয় ৬০-৭০ কোটি টাকা। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও আরো দুই হাজার শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানায় নিয়োজিত কয়েকজন কারিগর জানান, নিয়মিত বেতন, নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াত, দুপুরের খাবার ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ শ্রমিক বান্ধব পরিবেশেই এই কারখানায় কাজ করতে পারছেন তারা। এতে তাদের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরেছে।
প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখা যায়, কারখানাটিতে দুই ক্যাটাগরিতে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক। এর মধ্যে দক্ষ শ্রমিকদের সরাসরি জুতা তৈরির কাজে নিয়োগ দেয়া হয়। অদক্ষ শ্রমিকদের কারখানার ভেতরেই প্রশিক্ষণ দেয় এসইআইপি নামে একটি সংস্থা। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরও উৎপাদনকাজে নিয়োগ দেয়া হয়। তাছাড়া প্রশিক্ষণকালে নতুন শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেয়া হয়। এছাড়া আটটি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। কোনো বিভাগে নতুন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কোনো বিভাগে হচ্ছে কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণ। কোথাও আবার শ্রমিকরা জুতা উৎপাদন করছেন হাতে ও মেশিনে। কোথাও আবার বিদেশী বায়াররা নিজেরা উপস্থিত থেকে অর্ডারকৃত জুতার মান বুঝে নিচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত জোলেখা, আমেনা, রোকেয়া ও জামিলা নামের চার শ্রমিক জানান, এখানে কাজ করে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। কাজ করে যে বেতন পান, তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পরও কিছু সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ছেলে-মেয়েদের পড়াতে এখন আর তাদের কষ্ট হচ্ছে না।
বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজের উপ-মহা ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মোঃ শাহ আলম নয়ন জানান, বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভ‚মিকা রাখছে। এখানকার উৎপাদিত পণ্য ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, কানাডা ও জাপানসহ বিশ্বের ২৮ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিপ্লব পাল জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে অধিকাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছেন। কারখানায় তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও শিশুসন্তানদের জন্য ডে কেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে নারী শ্রমিকদের মাতৃর্ত্বকালীন ছুটিও দেয়া হয়।
বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, এ কারখানাতে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই স্বামী পরিত্যক্তা নারী। বর্তমানে এখানে অত্যাধুনিক মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। এতে আরো দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তাছাড়া রফতানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও পণ্য বাজারজাতের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV