শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
Welcome To Our Website...

শ্রীপুরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে সফলতা

শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৪৭ বার পঠিত

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলক ভারতীয় নাসিক এন- ৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে সফলতা এসেছে। দেশে উৎপাদিত শীতকালীন পেঁয়াজ ফুরিয়ে যাওয়ার পর হু হু করে বাড়তে থাকে অতিপ্রয়োজনীয় এই খাদ্য পণ্যটির দাম। তখন এ চাহিদা মেটানোর জন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে বাজারে। পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ডলার। এ কারণেই দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে চাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে তাই দেশেই শুরু হয়েছে ভারতীয় নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ। এবার বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ১’শ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এই পেঁয়াজের বীজ, সার, বীজতলা করার পলিথিনসহ বীজতলা তৈরির সকল উপকরণ চাষিদের বিনামূল্যে দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

গত সেপ্টেম্বরে চাষিরা বীজতলা করেন। এরপর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করেছেন। এখন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলাতে ১’শ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭০ হেক্টর বেশি। এই পেঁয়াজ চাষে উপজেলার ৭’শ ৫০ জন চাষিকে এক কেজি বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ১৬’শ মেট্রিক টন পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা। হেক্টর প্রতি ১৮ মেট্রিক টন ফলনের আশা কৃষি বিভাগের।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ মণ। লাল রঙের প্রায় প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন হয়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। বাজারে পেঁয়াজের দাম ও ফলন ভাল হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা। অসময়ে চাষ এবং ফলন ভাল হওয়ায় অনেক কৃষক নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী বছর এ পেঁয়াজ চাষ আরো বৃদ্ধির সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কুদলা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আমি এই পেঁয়াজের চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। এক একটি পেঁয়াজের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়েছে। এই পেঁয়াজ তোলার পর এই জমিতে আবারো পেঁয়াজ লাগাবো। আমি গতবছর ও এ পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। উপজেলা কৃষি অফিস বীজ, সারসহ সব জিনিস বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। বিভিন্ন সময় কৃষি উপ-সহকারী অফিসাররা খোঁজ-খবর নিয়েছে এবং পরামর্শ দেন। আগামী বছর এ পেঁয়াজ আরো বেশি লাগাবো।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক শহীদ মণ্ডল বলেন, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ আমাকে দিয়েছে। কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়েছে। আমি ১০ মন পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। আমি ৩ বছর ধরে এ পেঁয়াজের চাষ করে আসছি। আমি অনেক লাভবান হয়েছি।

একই গ্রামের কৃষক সরোয়ার মণ্ডল বলেন, আমার এক চাচা গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজের চাষ করেছে। খুব ভালো ফলন পেয়েছে। আমরাও আগামীতে এ পেঁয়াজের চাষ করবো।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী মনিরুজ্জামান জানান, এটি গ্রীষ্মকালীন নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ। কৃষকদের মাঝে আমরা বীজ, সার, পলিথিনসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়েছি। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ হওয়ায় এ চাষ কঠিন হলেও অসময়ের পেঁয়াজ হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক দিনদিন এ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সালমা জাহান নিপা জানান, সার্ভিস শ্রীপুর উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ করা হয়েছিল। শ্রীপুরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকদের মাঝে নতুন করে দেখা যাচ্ছে। দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ চাষে কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Deshjog TV